সমন্বিত হাঁস ও মাছ চাষ লাভজনক!

মৎস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতে, পুকুরে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করলে খুব সহজে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। ঢাকার আশেপাশে এলাকা- ধামরাই, সাভার, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের অনেক স্থানে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পদ্ধতিতে অনেক সুবিধা রয়েছে যেমন- এর জন্য পুকুরে তেমন বাড়তি সার ও খাদ্য দিতে হয়না । মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একই সাথে মাছ, হাঁস ও হাঁসের ডিম থেকে ত্রিমূখী আয় করা সম্ভব।

যেভাবে শুরু করতে পারেনঃ এ প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে চাইলে আপনাকে ৪০-৫০ শতাংশ আয়তনের একটি লাগবে। ১০০- ১৫০ টি হাঁস, ১৫০০-১৮০০ টি মাছের পোনা, হাঁসের ঘর। এসব পরিকল্পিতভাবে করলে ভাল হয়। পাহারাদারের ঘরটি হাঁসের ঘরের দক্ষিন পাশে হলে ভাল হয়।

পুকুর তৈরি করুন নিখুঁতভাবেঃ আপনাকে সঠিকভাবে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হলে পুকুরের চারপাশের পাড় ভালোভাবে মাটি দিয়ে উঁচু করে বাধতে হবে। পুকুরের তল দেশ সংস্কার করতে হবে। পুকুরে চুন প্রয়োগ করতে হবে প্রতি শতকে ১ কেজি হারে। চুন প্রয়োগের পর পানি সরবরাহ করতে হবে। মনে রাখবেন চুন প্রয়োগের ২-৩ সপ্তাহ পর মাছ ছাড়তে হবে। পুকুরে কোন আগাছা রাখা যাবে না, এমনকি পানা থাকলেও তা পরিষ্কার করে দিতে হবে। পুকুরে পানি কমনো বা বাড়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

কোন জাতের মাছ নির্বাচন করবেনঃ
হাঁস চাষ করায় পুকুরে মাছের বিভিন্ন প্রকার খাবারের সৃষ্টি হয়। এজন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের বিভিন্ন জাতের মাছের চাষ করা উচিৎ। তাছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভিন্ন ভিন্ন স্তরের খাবার খায়। মাছের প্রজাতির মধ্যে সিলভার র্কাপ ও কাতলা -পানির উপরের স্তরে খাদ্য খায় গ্রাস র্কাপ -পুকুরের জলজ আগাছা ও ঘাস খায় , কমন র্কাপ -পুকুরে তলদেশের খাদ্য খায় বলে জানালেন মৎস্য বিশেষজ্ঞারা। এছাড়াও মৃগেল, কালিবাউশ, মিরর কার্প, সরপুটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করতে পারেন।

মাছের সম্ভব্য সংখ্যাঃ প্রতি শতকের জন্য সিলভার কার্প – ১০-১৫ টি, কাতলা/ব্রিগেড- ৬ টি, মৃগেল ৬ টি, কালিবাউশ ৩টি, গ্রাস কার্প ৩টি, সরপুটি ৭-১০টি ।

হাঁসের ঘর তৈরিঃ পুকুর পাড়ে কিংবা পুকুরের উপর ঘরটি তৈরি করতে হবে। ঘরের উচ্চতা ৫-৬ ফুট হলে ভাল হয়। ঘর তৈরিতে বাঁশ, বেত, টিন, ছন, খড় ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরটি খোলা- মেলা হতে হবে এবং সাপ ও ইঁদুর থেকে মুক্ত রাখতে হবে।

উন্নত হাঁসের জাতঃ হাঁসের জাত নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যে জাতের হাঁস বেশি ডিম দেয় সে জাতের হাঁস নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান রানার ও খাকি ক্যাম্পেবেল নির্বাচন করা যেতে পারে। এ জাতের হাঁস ৫ মাস বয়স থেকে ২ বছর পর্যন্ত ডিম দেয়। বছরে ২৫০- ৩০০ টি ডিম দিয়ে থাকে।

হাঁসের খাদ্যঃ শুকনা খাদ্য না দিয়ে হাঁসকে সবসময় ভেজা খাদ্য দেওয়া উচিত। খাদ্যে আমিষের পরিমাণ ডিম দেওয়া হাঁসের ক্ষেত্রে ১৭-১৮ শতাংশ ও বাচ্চা হাঁসের ক্ষেত্রে ২১ শতাংশ রাখা উচিত।

সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ঃ ৪০- ৫০ শতাংশের একটি পুকুরে ১০০ টি হাঁসের জন্য এ প্রকল্প শুরু করলে সব মিলে খরচ দাড়াবে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা সঠিক পরিচর্যা আর যতœ নিতে পারলে প্রথম বছরে যাবতীয় ব্য বাদ দিয়ে ৬০-৯০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হতে পারে।

কোথায় পাবেন হাঁসের বাচ্চাঃ দৌলতপুর হাঁস খামার, নারায়ণগঞ্জ হাস প্রজনন কেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত হাঁস-মুরগির খামার ও বিস্থস্ত¡ ব্যক্তিদের নিকট থেকে হাঁস বা হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করতে পারেন।

কোথায় পাবেন মাছের পোনাঃ এশিয়ার বিখ্যাত হালদার নদীর পোনা সবচেয়ে ভাল। তবে আপনার নিকটের সরকারী মৎস্য পোনা উৎপাদন খামার থেকে মাছের পোনা সংগ্রহ করতে পারনে।

রোগমুক্ত, উন্নত জাতের হাঁস আধুনিক পদ্ধতি ও সঠিক নিয়ম অনুযায়ী চাষ করুন।

যে কোন পরামর্শের জন্য আপনার উপজেলা বা জেলা মৎস্য ও পশু সম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: